গত পাঁচ দশকে দুই মেরু সংলগ্ন অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকা থেকে বিশাল পরিমাণের বরফ গলে সাগরের জলসীমায় যুক্ত হয়েছে, যার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের নর্থামব্রিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক ইনেস ওটোসাকার পরিচালনায় সম্পন্ন হওয়া সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৭০-এর দশক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে গবেষক দলটি দেখতে পান যে, বিগত ৫০ বছরে উভয় অঞ্চল মিলিয়ে সর্বমোট ১১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন টন বরফ বিনষ্ট হয়েছে। এই বিপুল বরফ গলে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে সাগরের জলস্তর ১ দশমিক ১ ইঞ্চিরও বেশি বা প্রায় ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মহাসাগরের উষ্ণতার কারণে হিমবাহগুলো খণ্ডিত হয়ে সাগরে বিলীন হওয়ার মাধ্যমেই মূলত ৮৪ শতাংশ বরফ গলেছে, আর মাত্র ১৬ শতাংশ গলেছে বায়ুমণ্ডলীয় বা উপরিভাগের উষ্ণতার কারণে। এর মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলনের দরুন সাগরের উচ্চতা বেড়েছে ১ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার এবং অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলার ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে ১ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে বরফ হ্রাসের প্রবণতা তুলনামূলক কম হলেও ২০১০-এর দশকে এসে তা বিপুল পরিমাণে বিস্তার লাভ করে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকায় নজিরবিহীন তুষারপাত হওয়ায় বরফ ক্ষয়ের গতিতে সাময়িক কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, এই সাময়িক বিরতি সুদূরপ্রসারী কোনো স্বস্তি বয়ে আনবে না। সমুদ্রের পানির বিস্তার এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর উপকূলবর্তী এলাকার কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রা চরম ঝুঁকিতে পতিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই বিরূপ প্রভাব সরাসরি আঘাত হানছে হিমবাহগুলোর ওপর। সূত্র: ডেইলি মেইল।