পাঁচ বছরের একটি প্রণয়ঘটিত সম্পর্কের বাস্তব ঘটনা তুলে ধরে মানুষের জটিল মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন একজন পেশাদার সাইকোথেরাপিস্ট। পরিচয় গোপন রাখা ওই পুরুষ সেবাগ্রহীতা তাঁর প্রেমিকার ভরণপোষণ, পোশাক, খাওয়াদাওয়া ও ভ্রমণসহ নানা অর্থনৈতিক চাহিদা সাধ্যমতো পূরণ করতেন। তবে গভীর অনুরাগের এই আবহেও একসময় তিনি জানতে পারেন, তাঁর অগোচরে প্রেমিকা আরও দুই থেকে তিনজনের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আলাপ ও ভার্চ্যুয়াল অন্তরঙ্গতায় যুক্ত ছিলেন। বিষয়টি ধরা পড়ার পরও সম্পর্ক হারানোর ভয়, সব ঠিক হওয়ার আশা কিংবা গভীর মোহের কারণে ওই তরুণ সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে ওই তরুণীর বিয়ের দিন। ক্লায়েন্টের বর্ণনা অনুযায়ী, বিয়ের দিনেও তাঁদের মধ্যে নিবিড় বার্তালাপ ও ব্যক্তিগত ছবির আদান-প্রদান চলে এবং একাধিকবার জানতে চাওয়া সত্ত্বেও বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখা হয়। বিয়ের পরও যোগাযোগ থেমে থাকেনি; স্বামী কর্মস্থলে গেলেই আগের মতো বার্তা পাঠানো হতো এবং তিনি স্বামীকে ছেড়ে ওই ক্লায়েন্টের কাছে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিতেন। এমন বাস্তবতায় বারবার বিশ্বাসভঙ্গ ও তীব্র কষ্টের শিকার হয়েও কেন মানুষ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না—সেই গভীর প্রশ্নটি সামনে চলে আসে।
উক্ত থেরাপিস্টের মতে, কাউকে সরাসরি সঠিক বা ভুলের দাঁড়িপাল্লায় না মেপে দেখতে হবে বিষয়টি তাঁর আত্মসম্মান, মানসিক সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলছে। ভালোবাসা হারানোর আতঙ্ক, অতিরিক্ত মানসিক নির্ভরতা, একাকিত্ব, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি কিংবা অতীতে দেওয়া শ্রম ও আবেগের কারণেই অনেকে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। বাইরে থেকে তাঁদের বোকা বা দুর্বল মনে করা হলেও তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতার গভীরতা অনুধাবন না করে কেবল আচরণ দেখে মন্তব্য করা অনুচিত।
এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘লাইভড এক্সপেরিয়েন্স হেয়ার্ড: রিয়েল ভয়েস, রিয়েল চেঞ্জ’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, মানসিক সংকট ও চিকিৎসার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা অত্যন্ত জরুরি। চটজলদি ‘সম্পর্ক ছেড়ে দেওয়ার’ মতো উপদেশ চাপিয়ে না দিয়ে সহমর্মিতার সঙ্গে তাঁদের কথা শুনলে ব্যক্তি নিজের সীমারেখা, অধিকার ও প্রত্যাশা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। কেবল অন্যের কথা ভাবা নয়, নিজের আত্মমর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সচেতন হয়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর তিনি জোর দেন।
ব্যক্তিগত এই সংকট থেকে বৃহত্তর সামাজিক শিক্ষার দিকটি উল্লেখ করে তিনি শৈশব থেকে আবেগের প্রকাশ, তরুণদের সুস্থ সম্পর্ক ও সম্মতির ধারণা দেওয়া এবং বিচারহীন পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সাথে কারও অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি প্রকাশ না করে গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও তুলে ধরেন। পরিশেষে তিনি মন্তব্য করেন, মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব সহকারে শোনা এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়াই প্রকৃত ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।