বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যসহ মোট ১১২ জন শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে বিশেষ শুভেচ্ছাপত্র ও স্মারক উপহার পৌঁছে দিয়েছে জাবি বন্ধুসভা। ৫ অক্টোবর দিনভর এই কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনের সদস্যরা।
এদিন সকাল থেকেই বন্ধুসভার সদস্যরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন, অনুষদ ভবনসমূহ, একাডেমিক ইনস্টিটিউট ও বিভাগীয় কার্যালয়গুলোতে যান। সেখানে তাঁরা শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় করেন এবং শিক্ষক দিবসের শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে বিশেষ শুভেচ্ছাপত্র তুলে দেন। সম্মাননাপ্রাপ্তদের তালিকায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. শামসুল আলম, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সোহেল রানা। এ ছাড়া বন্ধুসভার উপদেষ্টামণ্ডলী, বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি, জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক এবং সংগঠনের সদস্যদের নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষকেরাও এই শুভেচ্ছা লাভ করেন।
জ্ঞান বিলানো এবং শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণসম্পন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের নিরবচ্ছিন্ন অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। শ্রেণিকক্ষের বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে শিক্ষার্থীদের এমন আন্তরিক ভালোবাসায় শিক্ষকেরা আবেগাপ্লুত হন। তাঁরা এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করে শিক্ষার্থীদের প্রতি স্নেহ ও আশীর্বাদ জানান।
অনুভূতি প্রকাশ করে জাবি বন্ধুসভার সভাপতি সৈয়দ সালমান হাসান বলেন, ‘একজন শিক্ষকের অবদান শুধু শ্রেণিকক্ষের চার দেয়াল কিংবা পাঠ্যবইয়ের পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। শিক্ষার্থীর মুক্তচিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ জীবনের সঠিক ভিত্তিপ্রস্তর গড়ে ওঠে শিক্ষকের হাত ধরেই। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমাদের প্রিয় শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অনন্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই বন্ধুসভার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।’
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের মৌলিক ও নৈতিক দায়িত্ব। ১১২ জন শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার হাতে শুভেচ্ছাপত্র, কলম ও স্মারক কি-রিং পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা তাঁদের প্রতি অন্তরের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বার্তা দিতে চেয়েছি। ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া আরও সুন্দর, প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তুলতে বন্ধুসভা ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’