সুন্দরবনের ময়দাপাশা খালে টহলরত বনরক্ষীদের নজরে আসতেই নৌকায় থাকা হরিণের মাংস পানিতে ফেলে দেন দুই ব্যক্তি। একপর্যায়ে বনরক্ষীরা কাছে পৌঁছালে একজন গহিন অরণ্যে পালিয়ে গেলেও অপরজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই ডিঙিনৌকায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৭০টি শিকারের ফাঁদ, হরিণের কাটা মাথা, কলিজা ও নাড়িভুঁড়িসহ নানা সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বানিয়াখালী ফরেস্ট স্টেশন এলাকায় গত সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ছয়টায় এই ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম আয়াতুল্লাহ গাজী (২২)। তাঁর নিবাস খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামে। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে করা মামলায় আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তাঁকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বানিয়াখালী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা কে এম রাশেদ সাদাত জানান, সোমবার রাতে ময়দাপাশা খালে নিয়মিত টহলের সময় বনরক্ষীরা সন্দেহভাজনদের দেখতে পান। তাঁদের কাছে সুন্দরবনে প্রবেশের কোনো বৈধ অনুমতি ছিল না। একজন বনের ভেতরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অন্যজনকে আটক করা সম্ভব হয়। নৌকা থেকে হরিণের খণ্ডিত মস্তক, প্রায় দেড় কেজি কলিজা, নাড়িভুঁড়ি এবং বিশেষ ছিটকা ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে। তবে সঙ্গে থাকা মাংস আগেই পানিতে ফেলে দেওয়ায় তা উদ্ধার করা যায়নি।
অভিযানে অংশ নেওয়া হায়াতখালী বন টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পিন্টু বাড়ৈ উল্লেখ করেন, পলাতক ব্যক্তিসহ দুজনের বিরুদ্ধেই বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং আটক আয়াতুল্লাহ গাজীকে ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফাঁদ প্রসঙ্গে তিনি জানান, গাছের নমনীয় বাঁকানো ডাল ও মজবুত দড়ি দিয়ে এই ছিটকা ফাঁদ তৈরি করা হয়। হরিণের পা এতে আটকে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণীটি ওপরের দিকে ঝুলে পড়ে এবং সেখান থেকে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করলে ফাঁসের টান আরও বেড়ে যায়।
সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রা এলাকার বাসিন্দারা জানান, লোকালয় থেকে একটি সরু নদী পার হলেই সুন্দরবনের গহিন অঞ্চল। চোরাশিকারিরা রাতের আঁধারে বনের ভেতর হরিণ চলাচলের পথে নাইলনের ফাঁদ পেতে রাখে। পরে শিকার করা হরিণের মাংস গোপনে বিক্রি করে তারা।
এ বিষয়ে সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. সাজমিনুল ইসলাম জানান, এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং কারা এই মাংসের ক্রেতা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্ধারকৃত হরিণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মাটিতে পুঁতে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্য প্রাণী সংরক্ষণে স্থানীয়দের বন বিভাগকে সহায়তা করার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।