হঠাৎ হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার ব্যক্তির প্রাণরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি হলো কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর। আপাতদৃষ্টে সম্পূর্ণ সুস্থ একজন মানুষও খেলার মাঠ, কর্মক্ষেত্র কিংবা যেকোনো স্থানে আচমকা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়তে পারেন, যা অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন সংকটজনক মুহূর্তে কালবিলম্ব না করে সঠিক নিয়মে সিপিআর দেওয়া গেলে আক্রান্তের বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
কোনো ব্যক্তি হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে এবং তাঁর ঘাড়ের ক্যারোটিড পালস না পাওয়া গেলে বুঝতে হবে তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত। এ সময় আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসপ্রশ্বাস অনিয়মিত হতে পারে কিংবা পুরোপুরি বন্ধও থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর আরম্ভ করতে হবে।
সিপিআর শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট স্থানটি নিরাপদ কি না তা নিশ্চিত করে রোগীকে জোরে ডেকে সচেতনতা যাচাই করতে হবে। এরপর শ্বাসপ্রশ্বাস ও ক্যারোটিড পালস পরীক্ষা করতে হবে। কোনো সাড়া ও স্পন্দন না পাওয়া গেলে অতি দ্রুত প্রক্রিয়াটি শুরু করতে হবে। একই সাথে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড ব্যয় করে জরুরি সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগের মাধ্যমে সাহায্য চাইতে হবে, কারণ দীর্ঘক্ষণ কেবল সিপিআর দিয়ে রোগীকে টিকিয়ে রাখা যায় না।
সিপিআর দেওয়ার ক্ষেত্রে রোগীর বুকের মাঝখানে এক হাতের তালুর ওপর অপর হাত রেখে প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার গতিতে সজোরে চাপ বা চেস্ট কম্প্রেশন দিতে হবে। এই চাপের গভীরতা হতে হবে প্রায় ৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার বা ২ ইঞ্চি। প্রতি ৩০ বার চাপ দেওয়ার পর রোগীর নাক চেপে ধরে মুখে মুখ লাগিয়ে ২ বার কৃত্রিম শ্বাস দিতে হবে এবং লক্ষ্য রাখতে হবে যেন বুক ওঠানামা করে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত হবে ১৫:২। অতি ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে দুই আঙুল দিয়ে বুকে চাপ দিতে হয় এবং মুখ ও নাক একসঙ্গেই ঢেকে শ্বাস প্রদান করতে হয়। প্রতি ২ মিনিট পরপর রোগীর ক্যারোটিড পালস পরীক্ষা করে দেখা জরুরি।
আশপাশে এইডি যন্ত্র পাওয়া গেলে দ্রুত তা রোগীর বুকে স্থাপন করতে হবে। বিমান, বিমানবন্দর ও মেট্রোস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকা এই বৈদ্যুতিক যন্ত্রটি হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক ছন্দ ফেরাতে ভূমিকা রাখে। রোগীর স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন ও ক্যারোটিড পালস ফিরে না আসা পর্যন্ত অথবা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা না করা অবধি সিপিআর অব্যাহত রাখতে হবে।
বারডেম হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের মতে, তামিম ইকবালের জীবন রক্ষা করা এই জীবনদায়ী পদ্ধতির বিষয়ে চিকিৎসক, নার্স, অগ্নিনির্বাপক কর্মী, ডুবুরি এবং উদ্ধারকারীসহ সব শিক্ষিত মানুষের বাস্তব জ্ঞান থাকা দরকার। উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতে এটি রাখা হয়। যেহেতু প্রশিক্ষণহীন ব্যক্তি সঠিকভাবে এটি প্রয়োগ করতে পারেন না, তাই দেশের সাধারণ মানুষকে সিপিআর শেখাতে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।