গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে পুলিশের টহল গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি তিন পুলিশ সদস্যকে মারধর করা হয়েছে। শনিবার দুপুর নাগাদ উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট অঞ্চলে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফুলমিয়া এবং দুই কনস্টেবল শওকত ও জসিম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, হকিস্টিক, লাঠিসোঁটা ও কাঠের ফালি হাতে একদল যুবক ‘জয় বাংলা’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে একটি মোড়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ওই স্থানে পুলিশের একটি গাড়ি দাঁড়ানো ছিল, যার ভেতরে চালক এবং বাইরে তিন পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে হাত নেড়ে মিছিলটিকে সামনে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। তবে আকস্মিকভাবেই মিছিলের যুবকেরা গাড়িটিতে আক্রমণ চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় চালক গাড়িটি সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা ধাওয়া করে আঘাত করতে থাকেন। এক পুলিশ সদস্য তাঁদের থামাতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। মিছিলের কয়েকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও আক্রমণকারীরা পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে গাড়িতে উঠে সেখান থেকে সরে যান।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ সুপার হাবীবুল্লাহ জানান, সদর থানার একটি দল নিয়মিত টহল দেওয়ার অংশ হিসেবে দুপুরের দিকে রঘুনাথপুরের খেয়াঘাট এলাকায় গাড়ি থামিয়ে জিরিয়ে নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র ও হকিস্টিকসহ মিছিল নিয়ে এসে গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং দায়িত্বরত সদস্যদের মারধর করে। তিনি আরও বলেন, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে পুলিশ তাঁদের চলাচলে কোনো বাধা দেয়নি, তা সত্ত্বেও বিনা উসকানিতে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ উল্লেখ করেন, হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।