ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়া এক প্রসূতির যাবতীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী বাইরের দোকান থেকে কেনার অভিজ্ঞতা শুনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার দুপুরে ওই হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি ভুক্তভোগী নারী শিউলি আক্তারের অভিযোগ শোনেন এবং স্যালাইন বাবদ তাঁকে এক হাজার টাকা দেন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শিকারিকান্দা এলাকার বাসিন্দা শিউলি জানান, শুক্রবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর দুটি ছেলেসন্তান জন্ম নিলেও সরকারিভাবে কোনো ওষুধ মেলেনি; এমনকি গ্লাভসও কিনতে হয়েছে। মন্ত্রীর দেওয়া অর্থ পেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করলেও সার্বিক সেবার মানোন্নয়ন ও সবার যথাযথ চিকিৎসার দাবি জানান।
এর আগে শনিবার সকালে ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। ফুলপুরে উপস্থিত না থাকা পাঁচজন চিকিৎসকের এক দিনের বেতন কর্তনের নির্দেশ দেন তিনি। বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী শুরুতেই নতুন ভবনে গত ১৪ সেপ্টেম্বরের অগ্নিকাণ্ডের স্থানটি ঘুরে দেখেন। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেনের দপ্তরে উপস্থিত হয়ে ডিজিটাল ও সনাতন পদ্ধতির হাজিরা খাতা পরীক্ষা করেন এবং চিকিৎসকদের দেরিতে আসা ও বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতি দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
হাসপাতালের প্রসূতি, ডেঙ্গু ও হাম ওয়ার্ড ঘুরে দেখার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের সেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতা, খাবারের মান এবং শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা তদারক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে বেলা দুইটার দিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দায়িত্বের তালিকা মিলিয়ে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সকাল ১০টা বা পৌনে ১১টায় আসা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সার্বিক পরিবেশ ও মশারি ব্যবহারের প্রশংসা করেন তিনি। এ ছাড়া ১৪ সেপ্টেম্বর লিফটে ঘটা অগ্নিকাণ্ডের জমা পড়া তদন্ত প্রতিবেদন খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
হাসপাতালের মেয়াদযুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম যেমন ইনজেকশন, বাটারফ্লাই, সিরিঞ্জ ও ক্যানুলা সিটি করপোরেশনের ময়লার ভাগাড়ে পাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, পরিচালককে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এবং এতে অবহেলা কিংবা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শিশু ওয়ার্ডের আইসিইউ ও জনবলসংকট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী সপ্তাহে ঢাকায় ফিরে ময়মনসিংহ মেডিকেল ও ফুলপুর হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফুলপুর ও তারাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করে ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি এবং মা ও শিশুদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। তারাকান্দায় অচিরেই ইনডোর সেবাও চালু হবে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিক নিষিদ্ধ করা, বিদ্যমান ক্লিনিকগুলোর মান তদারকি এবং দালাল চক্র দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।