বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাঁদের ঘোষিত সাত দফার কোনোটিই দলীয় স্বার্থের নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি। এসব দাবি মেনে নেওয়া হলে এক দফার কোনো আবশ্যকতা থাকবে না; তবে দাবি পূরণ না করা হলে দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় এক দফার ডাক দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। শনিবার রাতে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। লংমার্চে নেতৃত্ব দিয়ে রাত ১১টা ৩৩ মিনিটে জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সমাবেশমঞ্চে উপস্থিত হন জামায়াত আমির। এরপর রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে তিনি বক্তব্য দিতে শুরু করেন এবং মাত্র ৬ মিনিট বক্তব্য দেন। রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে লংমার্চের সামগ্রিক কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জনগণের মূল্যবান ভোটের সংসদের মতো একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রত্যাশা থাকলেও বিশেষ কারসাজি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশের অধিক আসন কবজা করা হয়েছে, যার কারণে তারা এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, অতীতে জনগণের রায়কে যখনই অগ্রাহ্য ও অপমান করা হয়েছে, তখনই তার চরম পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে লংমার্চ নিয়ে কুষ্টিয়ায় এসেছেন এবং প্রয়োজনে কুষ্টিয়া থেকে যদি এক দফার জন্য ঢাকায় যেতে হয়, তবে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। কোনো টাকা-পয়সা বা বিরিয়ানি দেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবন চলে গেলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপস না করে অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মুহসিন এবং সেক্রেটারি এনামুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, মাত্র আট মাসের ব্যবধানে তাঁদের আন্দোলনে নামার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু ওয়াদা ভঙ্গ, দুর্নীতি, লুটপাট এবং সচিবালয় থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত দলীয়করণের কারণেই বাধ্য হতে হয়েছে। এমনকি একেকটি সারের ডিলারশিপ পেতে ১২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশকে আর কারও অঙ্গরাজ্য কিংবা বাপ-দাদার তালুকদারি বানাতে দেওয়া হবে না। সরকার দাবি না মানলে এই সাত দফা অবিলম্বে এক দফায় রূপ নেবে এবং ডাক এলেই সবাইকে ঢাকার অভিমুখে রওনা হতে হবে। কর্নেল অলি আহমদ বলেন, বিগত সরকারের মতো বর্তমান সরকারের আমলেও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সর্বত্র দলীয়করণ অব্যাহত রয়েছে এবং মানুষ সুবিচার ও অধিকারবঞ্চিত হচ্ছে। এই দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে জনগণের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হান্নান মাসউদসহ এনসিপি, এবি পার্টি, জাগপা, লেবার পার্টি, ছাত্রশিবিরসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এবং সংসদ সদস্যরা।
এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়। গাড়িবহরটি হানিফ ফ্লাইওভার, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রূপসা সেতু, যশোর, ঝিনাইদহ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক হয়ে রাত ১১টার দিকে কুষ্টিয়ায় পৌঁছে। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ যাত্রাপথে ১৯টি জেলা অতিক্রম করা হয় এবং পথে একাধিক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছিল এই ১১-দলীয় ঐক্য। আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে তাদের পরবর্তী লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।