ছড়াকার আহমেদ সাব্বিরের লেখা ‘ভূতের ছড়া’য় দুই মাথা, চার হাত এবং ছয় পা-বিশিষ্ট এক অদ্ভুত ভূতের মুখোমুখি হওয়ার গল্প বর্ণিত হয়েছে। ছড়া অনুযায়ী, ওই ভূতটি মুখ ভেঙচে রতন নামের এক বালককে ভয় পাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সে হুঁশিয়ারি দেয় যে, ভয় না পেলে ছয় পা দিয়ে চটকে আদর করার পাশাপাশি শেওড়াগাছে ঝুলিয়ে হাঁটুতে সুড়সুড়ি দেওয়া হবে। এছাড়া লাল করলার ঝোলের সঙ্গে ঝালের লাচ্ছি খাওয়ানোর ভয় দেখিয়ে সে রতনকে চিৎকার করে ‘ও বাবা, ভয় পাচ্ছি’ বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করে।
তবে এসব হুমকিতে ভীত হওয়া তো দূরের কথা, রতন হাসির হেঁচকি তুলে ভূতকে রীতিমতো চমকে দেয়। বালকটির এমন নির্ভীকতায় ভূত হতচকিত হলে রতন তার হাসি থামিয়ে জানতে চায়, মানুষকে এভাবে দাবড়ে বেড়ানোর মতো কোনো রেজিস্ট্রেশন আইডি কিংবা সার্টিফিকেট ভূতের কাছে রয়েছে কি না। রতনের এই প্রশ্নে ঘাবড়ে গিয়ে ভূতটি ‘এনআইডি কার্ড আনছি’ বলে একঝটকায় শেওড়াগাছের মটকায় চড়ে বসে। এরপর সে আর কক্ষনো সেখান থেকে মুখ বাড়ায়নি এবং রতনবাবুর আতঙ্কে আজও তার বুক কুঁকড়ে থাকে। প্রসঙ্গত, এ রচনায় আখতার হুসেনকে ‘আমাদের ছড়া-দাদু’ অভিধায় এবং শামসুর রাহমানের ‘লম্বা গলা’ ছড়াটির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।