দেশের নদ-নদীতে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতের লক্ষ্যে আকাশপথে নজরদারি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান–২০২৬’-কে সহায়তা দিতে গত ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার এই অভিযান শেষ হয়। আজ সোমবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ফেসবুক পেজে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নদীমাতৃক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও উপকূলীয় অঞ্চলে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারের সাহায্যে এই নজরদারি চালানো হয়। এর আওতায় রাজধানী ঢাকা থেকে উড্ডয়ন করে মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, বরিশাল ও ভোলার বিভিন্ন নদী পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি যশোর থেকে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা এবং চট্টগ্রাম থেকে কুতুবদিয়া এলাকার নদী ও সংলগ্ন উপকূলে অভিযান পরিচালিত হয়। ঢাকা থেকে টহল পরিচালনার সময় মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের জলসীমায় কিছু মাছ ধরার ট্রলার নজরে এলে হেলিকপ্টারের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্চলাইট (নাইট সান) জ্বালিয়ে সংকেত ও সতর্কতা জারি করা হয়।
হেলিকপ্টারে উন্নত সার্চলাইট সংযোজিত থাকায় সূর্যাস্তের পরও নদীর বুকে অবৈধ শিকারিদের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। রাতের অন্ধকারের পাশাপাশি মৃদু আলোতেও নিষিদ্ধ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে বৈমানিক ও এয়ারক্রুরা ব্যবহার করেন নাইট ভিশন গগলস (এনভিজি)। আকাশ থেকে ভূমিতে সার্বক্ষণিক বেতার যোগাযোগের মাধ্যমে অভিযানকারী দল মৎস্য অধিদপ্তর এবং মাঠপর্যায়ের আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সার্বিক সমন্বয় রক্ষা করে।
এ ছাড়া নির্ধারিত অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন বিমানঘাঁটি থেকে পরিচালিত প্রশিক্ষণ বিমানের নিচ দিয়ে উড্ডয়নের (লো-লেভেল ফ্লাইট) মাধ্যমেও উপকূলবর্তী অঞ্চলে পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা হয়েছিল। আইএসপিআর জানিয়েছে, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর অংশ হিসেবে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক তৎপরতা চালিয়ে যাবে।