advertisement
advertisement

দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন ঠেকাতে কেন্দ্রের আগাম কড়াকড়ি ও নেপথ্যের কারণ


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন ঠেকাতে কেন্দ্রের আগাম কড়াকড়ি ও নেপথ্যের কারণ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মসূচি ঘিরে ব্যারিকেডের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। যন্তর মন্তর, নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর

advertisement

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নির্ধারিত কর্মসূচির প্রায় ছয় দিন আগে বিভিন্ন রাজ্যের ডিজিপি এবং কয়েকজন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবরের ওই বৈঠকে নির্দেশ দেওয়া হয়, অতীতে এই ধরনের বিক্ষোভে শামিল হওয়া ব্যক্তিরা যেন কোনোভাবেই নিজেদের এলাকা ছেড়ে দিল্লির উদ্দেশে বের হতে না পারেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনে প্রতিরোধমূলক আটক এবং বিক্ষোভকারীদের অর্থের উৎস চিহ্নিত করার তাগিদও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে ৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও একটি বৈঠক ডাকে।

সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দিপকের বাড়ি মহারাষ্ট্রে হওয়ায় রাজ্যটিকে ঘিরে বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। গোয়েন্দাদের ধারণা ছিল, রাজ্যটির সক্রিয় বামপন্থী সংগঠনগুলোর সমর্থন নিয়ে সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ দিল্লির জমায়েতে অংশ নিতে পারেন। সেই অনুযায়ী ৪ অক্টোবরই মহারাষ্ট্রের ডিজিপি কার্যালয় থেকে সব পুলিশ ইউনিটে একটি গোপনীয় চিঠি পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বিভাগের আইজিপি লক্ষ্মী গৌতমের স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে সিজেপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের দিল্লিযাত্রা প্রতিহত করতে ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর এই অতি-সতর্কতার পেছনে রয়েছে গত জুলাই মাসের অভিজ্ঞতা। সে সময় যন্তর মন্তরে সিজেপির জমায়েত খুব একটা বড় হবে না ধরে নিয়ে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। তবে সেই অনুমানকে ভুল প্রমাণ করে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে, যার জেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। সেই পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানায়, যেন বাইরের রাজ্য থেকে বিপুল জমায়েত রাজধানীতে প্রবেশ করতে না পারে।

এদিকে ডিজিপির ওই চিঠির ভিত্তিতে মহারাষ্ট্রে সম্ভাব্য আন্দোলনকারীদের নোটিশ পাঠানো শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দিপকে মন্তব্য করেন, ‘আসলে মহারাষ্ট্র পুলিশও নিখুঁত নয়’ এবং পরদিন নোটিশ জারির বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। রাজ্য পুলিশের শীর্ষ দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, কাউকে গ্রেপ্তার না করে ডিজিপির নির্দেশে স্রেফ সতর্কতামূলক ৫০টিরও কম নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে রাজ্য পুলিশের এমন দাবির বিপরীতে মুম্বাই পুলিশ বেশ কঠোর অবস্থান নেয়। সূত্র নিশ্চিত করেছে, শনিবারের জমায়েতে যোগ দেওয়া আটকাতে শুক্রবারই মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে মহারাষ্ট্র পুলিশ আইনের ধারায় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর