advertisement
advertisement

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্ন ফাঁস: জড়িত ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্তে জোর


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্ন ফাঁস: জড়িত ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্তে জোর

সড়ক অবরোধ করে পরীক্ষার প্রবেশপত্র ছিঁড়ে প্রতিবাদ পরীক্ষার্থীদের। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর সাতমসজিদ রোডে

advertisement

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। এই তদন্তে মূলত দুটি দিককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যে কারা যুক্ত ছিল এবং এ ক্ষেত্রে কাদের দায়িত্বহীনতা বা গাফিলতি ছিল। তথ্যানুসন্ধানের অংশ হিসেবে আজ রোববার কমিটির সদস্যদের রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ৯৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে ২৪২টি শূন্য পদের জন্য প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পরীক্ষা শুরুর আগেই তা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে পরীক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পরবর্তীতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর জানায়, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বেলা তিনটায় নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা তদন্তের লক্ষ্যে গতকাল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়, যাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুসরাত আইরিন, একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিল্লুর রহমান এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক এ কে এম মফিজুল ইসলাম।

শনিবার রাত থেকেই কমিটির সদস্যরা তৎপরতা শুরু করেছেন। তদন্ত দলের এক সদস্য প্রথম আলোকে জানান, তদন্তকাজে প্রযুক্তিগত বিষয় জড়িত থাকায় তাঁরা তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ থেকে একজন কর্মকর্তার সহায়তা চাইবেন। এ ছাড়া প্রশ্ন কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল, এর সঙ্গে কারা জড়িত, কাদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল এবং প্রশ্ন প্রণয়ন ও মুদ্রণে কারা যুক্ত ছিল—তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখা হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রশ্ন তৈরি, মুদ্রণ ও সরবরাহের দিকগুলোও তদন্তের আওতায় থাকবে, যেখানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয়কেন্দ্রিক অনুসন্ধান বেশি গুরুত্ব পাবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান মাহফুজুল আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলোও আমলে নেওয়া হয়েছে। আজ কমিটির সদস্যরা অধিদপ্তরের কার্যালয় পরিদর্শন করে আরও তথ্য সংগ্রহ করবেন। নির্ধারিত তিন কার্যদিবসের মধ্যেই তাঁরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর