advertisement
advertisement

বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া ভারতীয় নারীর হদিস পাওয়ার নির্দেশ গুয়াহাটি হাইকোর্টের


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া ভারতীয় নারীর হদিস পাওয়ার নির্দেশ গুয়াহাটি হাইকোর্টের

বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত

advertisement

সম্প্রতি ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া এক নারীর অবস্থান শনাক্ত করতে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক ও আসাম রাজ্য প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে মমতাজ বেগম নামের ওই গৃহবধূকে আন্তর্জাতিক সীমানা পার করিয়ে ওপারে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এর আগে গত মে মাসে আসামের নগাঁওয়ের ৪ নম্বর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ট্রাইব্যুনালের আদেশের অনুলিপি হাতে না পাওয়ায় তিনি উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। পরবর্তী সময়ে স্ত্রীর খোঁজে তাঁর স্বামী উচ্চ আদালতে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন দাখিল করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আইনি সুরক্ষার অধিকার না দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় এর আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও ব্যাখ্যা চেয়েছিল।

জানা গেছে, নগাঁও থেকে প্রথমে মমতাজ বেগমকে গোয়ালপাড়ার মাটিয়া ট্রানজিট ক্যাম্পে (আটককেন্দ্র) নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জুনের মাঝামাঝি সীমান্তে তাঁকে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা তাঁকে ওপারে পাঠিয়ে দেয়। ট্রাইব্যুনালের মে মাসের রায়ের সারসংক্ষেপ তৈরির তারিখ নিয়ে একটি প্রশাসনিক তদন্ত ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এ সম্পর্কিত নথি আদালতে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। গত বুধবার বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি প্রাঞ্জল দাসের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ নিখোঁজ নারীর বর্তমান অবস্থান অবিলম্বে খুঁজে বের করার সুস্পষ্ট তাগিদ দেন। এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়েছে যে কাউকে সীমানার বাইরে পাঠালেও তাঁর নিরাপত্তা ও অবস্থানের বিষয়ে রাষ্ট্রের কাছে তথ্য থাকা আবশ্যক। এর পূর্বে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া আরেক ভারতীয় নাগরিকের স্বামীকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দিয়েছিল এই হাইকোর্ট।

বিদেশ মন্ত্রকের আইনি প্রতিনিধি আদালতকে জানিয়েছেন, ওই নারীর সন্ধান পেতে ইতিমধ্যে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসের শুনানিতে কেন্দ্র ও আসাম সরকারের পেশ করা হলফনামা পর্যালোচনার পর এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে। অতীতে ২০১৯ সালেও মমতাজ বেগমকে বিদেশি বলে সাব্যস্ত করেছিল ট্রাইব্যুনাল, তবে উচ্চ আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনঃমূল্যায়নের নির্দেশ দেয়। ঘটনাচক্রে, ধার্য তারিখে আইনি সহায়তাকারীকে নিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির হলেও আইনজীবীর অনুপস্থিতির সুযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সম্প্রতি ভারতের শীর্ষ আদালত এবং বিভিন্ন রাজ্যের আদালত ভারতীয়দের ওপারে পাঠানোর ঘটনায় বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ তুলেছিলেন যে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে বিতাড়নের বিরুদ্ধে আদালতের এই অবস্থান সীমান্তসংক্রান্ত মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর