advertisement
advertisement

জুলাই সনদের বর্ষপূর্তিতে সংস্কারের রূপরেখা ও বাস্তবায়ন ঘিরে রাজনৈতিক বিভক্তি চরমে


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
জুলাই সনদের বর্ষপূর্তিতে সংস্কারের রূপরেখা ও বাস্তবায়ন ঘিরে রাজনৈতিক বিভক্তি চরমে

advertisement

রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল রূপান্তরের লক্ষ্যে ঐকমত্যের দলিল হিসেবে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের এক বছর পূর্ণ হলো আজ শনিবার। তবে স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তিতে সনদের মৌলিক কিছু প্রস্তাব ও তা কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সনদে স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলো বর্তমানে স্পষ্টত দুই বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়েছে।

সংবিধান-সম্পর্কিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের ঠিক করা রূপরেখা অনুসরণ করছে না ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। তারা এজন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করলেও বিরোধী দল তা বর্জন করেছে এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবিতে অনড় রয়েছে। যদিও বিশেষ কমিটি আশা প্রকাশ করেছে যে শেষ পর্যন্ত বিরোধীরা সংসদে আলোচনায় আসবে। ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বহাল রেখে এবং নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী জানুয়ারিতে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা করছে দলটি। এ লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে গত ২০ সেপ্টেম্বর সনদে সই করা ২৬টি দল ও জোটকে মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানালেও জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১টি দল সেই প্রক্রিয়া থেকে দূরে রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার ভাবনা জোর পায়। ওই বছরের অক্টোবরের শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারে ছয়টি পৃথক কমিশন গঠন করে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আট মাসব্যাপী ধারাবাহিক সংলাপের পর ৮৪টি প্রস্তাবসংবলিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করে। এর মধ্যে ৪৮টি বিষয় সংবিধান সংক্রান্ত এবং বাকিগুলো বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের। শেষাংশে রয়েছে সনদ বাস্তবায়নে ৭ দফার অঙ্গীকারনামা। গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি দল এতে সই করে। পরে গণফোরাম এবং চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি এনসিপি যুক্ত হলেও সংলাপে অংশ নেওয়া বাম ঘরানার চারটি দল সই করা থেকে বিরত থাকে।

সনদের বেশ কিছু প্রস্তাবে বিভিন্ন দলের ভিন্নমত রয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, উচ্চকক্ষের কর্তৃত্ব, সাংবিধানিক পদে নিয়োগের রূপরেখা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীর একই সঙ্গে একাধিক পদে দায়িত্ব পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মৌলিক পরিবর্তনের সুপারিশ রয়েছে। যেমন সনদে নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত মোট ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের কথা বলা হলেও বিএনপি চেয়েছে নিম্নকক্ষে দলগুলোর জয়ী আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের আসন নির্ধারিত হোক। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে দলগুলোর এসব নোট অব ডিসেন্ট ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত ছিল না; মূল প্রস্তাবের ওপরই ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়। বিএনপি অবশ্য ওই গণভোটের ভিত্তি হওয়া বাস্তবায়ন আদেশটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে আসছে। তাদের বক্তব্য, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ রেখেই সনদে সই হয়েছিল এবং নির্বাচনী ইশতেহারে পাওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী তারা তা কার্যকর করবে।

বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েও শুরু থেকেই সংকট ছিল। ঐকমত্য কমিশন দলগুলোর সঙ্গে পাঁচ দফা সংলাপ ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দুটি সুপারিশ জমা দিলে গত বছরের ১৩ নভেম্বর একটি বাস্তবায়ন আদেশ জারি হয়। সেই অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দুটি পৃথক শপথ নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের বাধ্যবাধকতা ছিল। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটের নির্বাচিতরা উভয় শপথ নিলেও বিএনপির সদস্যরা সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান, ফলে পরিষদটি আলোর মুখ দেখেনি। বিরোধী দল জামায়াত গণভোটের রায় বাস্তবায়নে লংমার্চের মতো কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে নেমেছে। এ পরিস্থিতিতে সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রথম আলোকে জানান, জুলাই সনদ কেবল রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, গণভোটে এটি জনগণের প্রত্যক্ষ অনুমোদন পেয়েছে। বাস্তবায়ন পদ্ধতিও আলোচনার মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়েছিল। তাই স্বাক্ষরকারী কোনো দলের এই অঙ্গীকার থেকে সরে আসা দলিলের মূল চেতনার সুস্পষ্ট বরখেলাপ।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর