advertisement
advertisement

ধানমন্ডিতে ফুটপাতে ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় যুবক আটক, দায়িত্বে অবহেলার দায়ে এএসআই প্রত্যাহার


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
ধানমন্ডিতে ফুটপাতে ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় যুবক আটক, দায়িত্বে অবহেলার দায়ে এএসআই প্রত্যাহার

ফুটপাতে মারধরের এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে

advertisement

রাজধানীর ধানমন্ডির ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় খালিদ হাসান (৩৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডির মীনা বাজার এলাকা থেকে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মারধরের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও পদক্ষেপ না নেওয়ায় ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাইকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, গত সোমবার দুপুরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়কে বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের উল্টো পাশে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় খালিদকে আটক করা হয়। আজই তাঁকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, মারধরের শিকার শহীদ আবদুল্লাহ মানসিক রোগে ভুগছেন। আটক খালিদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিকস ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে শহীদ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে। এর জেরে খালিদকে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে চড়-থাপ্পড়, লাথি ও কান ধরে ওঠবস করাতে দেখা যায়। ভুক্তভোগী তরুণী জানান, শহীদ আবদুল্লাহ তাঁকে ‘ব্যাড টাচ’ করেছিলেন। তবে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্তকে আটকাতে অনীহা দেখান। বাধ্য হয়ে তিনি মুঠোফোনে তাঁর এক স্বজনকে ডেকে আনেন, যিনি এসে শহীদ আবদুল্লাহকে প্রহার করেন। তরুণীর অভিযোগ, তাঁকে সহায়তা করতে এসে তাঁর স্বজন এখন হেনস্তার শিকার হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নীত হয়েছেন। অথচ শ্লীলতাহানির সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আজ সকালে ধানমন্ডি থানায় গেলে পুলিশ তাঁকে জানায়, ভিডিও ছড়িয়ে না পড়লে এমনটা ঘটত না। যে আইডি থেকে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে স্বজনের মুক্তি চান তিনি।

ঘটনাস্থলে অবস্থানরত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গে ওসি ইমদাদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসআই আবদুল হাইকে থানা থেকে ক্লোজ করা হয়েছে। বাকি দুই পুলিশ সদস্য পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (দাঙ্গা দমন বিভাগ) হওয়ায় তাঁদের ব্যাপারে তিনি কিছু অবগত নন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ এক যুবক খিস্তিখেউড় করতে করতে ওই ব্যক্তিকে বেদম চড় ও লাথি মারছেন। চারপাশে পথচারীরা ভিড় জমিয়ে দৃশ্যটি দেখছিলেন এবং কেউ কেউ তা মুঠোফোনে ধারণ করছিলেন। আশপাশের লোকজনকে ‘মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে’, ‘ক্যানটিনে এই ঘটনা ঘটে’, ‘মা-বোন নাই’ বলতে শোনা যায়। এক পথচারী উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্যকে দেখিয়ে মারধরের শিকার ব্যক্তিকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে মারধরের শিকার ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালে তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মারধরকারী যুবককে তখন বলতে শোনা যায়, ‘কিসের সরি, সরি বললেই সব শেষ হয়ে যায়?’ এবং ‘…তুই একটি মায়ের গায়ে হাত দিয়েছিস’ বলেই তিনি আবারও চড় মারেন। এ সময় মাত্র কয়েক হাত তফাতে দুই পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে দৃশ্যটি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ফেসবুকে পুলিশের এই নির্লিপ্ততা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আহা বাংলাদেশ! আহা স্বাধীনতা! আহা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইনের শাসন! পুলিশের সামনেই দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে একজন বাবার বয়সী লোকের উপর মব সৃষ্টি করছে, অথচ পুলিশ দর্শকের মতো ভূমিকা নিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে শুধু দেখছে?’

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর