কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহানের নতুন উপন্যাস ‘ফিনিক্স তোমাকে মায়াবাসি’র প্রচ্ছদ উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে লেখক (মাঝে)। শুক্রবার ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে। বাঁ থেকে পারভেজ হোসেন, ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, হাসনাত আবদুল হাই, নাসরীন জাহান, মাজহারুল ইসলাম ও সেলিম মোরশেদ। ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুক্রবার বিকেলে কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহানের আসন্ন উপন্যাস ‘ফিনিক্স তোমাকে মায়াবাসি’র প্রচ্ছদ উন্মোচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অন্যপ্রকাশ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা রূপ নেয় লেখকের সৃষ্টিশীল সত্তা, সাহিত্যকীর্তি ও প্রতিকূলতা জয়ের এক নিবিড় উদ্যাপনে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি উন্নত বিশ্বের প্রকাশনা রীতির উদাহরণ টেনে জানান, নোবেলজয়ী লেখক কাজুও ইশিগুরোর ‘ক্লারা অ্যান্ড দ্য সান’ বইটির প্রচ্ছদ উন্মোচিত হয়েছিল ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, অথচ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ২ মার্চ। ‘হারপারকলিন্স’সহ আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত এ চর্চা করে থাকে। বাংলাদেশে বই প্রকাশের আগে প্রচ্ছদ জনসমক্ষে আনার এটি দ্বিতীয় নজির; এর আগে ফরিদুর রেজা সাগরের একটি বইয়ের ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সভাপতির বক্তব্যে সাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই নাসরীন জাহানের জীবন ও লেখালিখির অবিভাজ্য রূপ তুলে ধরেন। নোবেলজয়ী আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘চলমান উৎসব’ (মুভেবল ফিস্ট) ধারণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নাসরীন জাহান জীবনকে সবসময় এক নিরন্তর উৎসব হিসেবে যাপন করেছেন। গত দুই বছর ধরে মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা এবং নানা জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে গেলেও তাঁর প্রাণচাঞ্চল্য ও হাস্যোজ্জ্বল স্বভাব ম্লান হয়নি। অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় শুয়েও তিনি প্রতিদিন সামাজিক মাধ্যমে গভীর সাহিত্যমূল্য ও দায়বদ্ধতাসম্পন্ন অণুকবিতা, অণুগল্প ও প্রবচন রচনা করে চলছেন, যা তাঁর মানসিক শক্তিরই প্রকাশ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে কথাসাহিত্যিক সেলিম মোরশেদ নাসরীন জাহানের লেখার অনন্য বর্ণনাভঙ্গি ও জাদুবাস্তবতার প্রশংসা করে বলেন, তাঁর মতো সহজাত সাহিত্যপ্রতিভা বাংলা ভাষায় বেশ বিরল এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়ে আরও বিশদ আলোচনার অবকাশ রয়েছে। আশির দশকের স্মৃতিচারণ করে ঔপন্যাসিক পারভেজ হোসেন উল্লেখ করেন, জীবনের ভেতরের লুকিয়ে থাকা জীবনকে ফুটিয়ে তুলতে নাসরীন জাহান তাঁর সমগ্র সত্তা, শরীর ও মজ্জাকে রচনার সঙ্গে মিশিয়ে দেন। এ ছাড়া গবেষক ও কথাসাহিত্যিক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী নাসরীন জাহানের সাহিত্যের মনস্তাত্ত্বিক ও গবেষণামূলক দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
শারীরিক অসুস্থতা জয় করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নাসরীন জাহান বলেন, মৃত্যুর আক্ষেপ বা হতাশার ভাবনা সম্পূর্ণ দূরে ঠেলে তিনি নিজেকে লেখার ভেতর সঁপে দিয়েছেন। কলম ধরলেই ফ্যান্টাসি ডালপালা মেলে এবং পৃথিবীর জীবন ও রূপ নতুনভাবে উদ্ভাসিত হয়। ছয় মাস আগেও যিনি একটি সেলফি পর্যন্ত তুলতে পারতেন না, তিনিই এখন মুঠোফোনে কথা বলছেন এবং ফেসবুকে সক্রিয় থেকে বাঁচার শক্তি সঞ্চয় করছেন। নিজের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনের সজীবতা দিয়ে কালো অন্ধকার ও মৃত্যুকে দূরে ঠেলে দিচ্ছি।’
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।