advertisement
advertisement

সাতক্ষীরায় শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উসকানিদাতা ও হামলাকারীদের বিচার চাইল ব্লাস্ট


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উসকানিদাতা ও হামলাকারীদের বিচার চাইল ব্লাস্ট

advertisement

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অজুহাতে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছিনতাই করে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পাশাপাশি উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সাথে সামাজিক মাধ্যমে হুমকির পরও শামীমের সুরক্ষায় প্রশাসনের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানায় ব্লাস্ট।

বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে সংস্থাটি জানায়, গত ১২ অক্টোবর শামীম ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যকার একটি ব্যক্তিগত কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ধর্মানুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করা হয়। এর পরদিন ১৩ অক্টোবর বিকেলে ফজলুল হক আমিনী নামের এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, তাঁর বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ করেন এবং শাস্তির দাবি জানান। পরবর্তীতে আরেকটি লাইভে তিনি শামীম যেখানে অবস্থান করছিলেন, সেখানে লোকজনকে জড়ো হওয়ারও ডাক দেন।

ব্লাস্ট উল্লেখ করে, ওই লাইভ বার্তার পর সেখানে কয়েক শ মানুষ সমবেত হন এবং স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বার থেকে শামীমকে টেনে বের করে দফায় দফায় মারধর করেন। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। তবে ওই রাতেই শতাধিক ব্যক্তি হাসপাতালে অনুপ্রবেশ করে চিকিৎসাধীন শামীমের ওপর পুনরায় চড়াও হয়। একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে গিয়ে আবারও মারাত্মক আঘাত করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

ব্লাস্ট জানিয়েছে, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সরাসরি হামলায় জড়িত এবং উসকানিদাতাদের আইনের মুখোমুখি করা জরুরি। এছাড়া অনলাইনে উন্মুক্ত হুমকির পরও প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন ব্যক্তির সুরক্ষায় অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নিহত শামীমের পরিবারের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও সুবিচারের দাবি জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে সহিংসতা চালানো বা বিচারবহির্ভূত দণ্ড দেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়; এ ধরনের পদক্ষেপ আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর