advertisement
advertisement

মাটির থালায় খাবার পরিবেশনে স্বাদের অনুভূতির নেপথ্যে থাকা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
মাটির থালায় খাবার পরিবেশনে স্বাদের অনুভূতির নেপথ্যে থাকা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

সত্যিই কি মাটির প্লেটে খাবার খেলে স্বাদ আলাদা মনে হতে পারে?

advertisement

একই পাত্রে রান্না করা গরম ভাত, মসুর ডাল, আলুভর্তা ও সরিষার তেল মাখানো শাক সাধারণ স্টিলের থালায় না খেয়ে মাটির থালায় খেলে স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা অনুভূত হতে পারে। এই অভিজ্ঞতার পেছনে মানুষের মনস্তত্ত্ব, ইন্দ্রিয়ানুভূতির মিথস্ক্রিয়া এবং পরিবেশন পাত্রের ভৌত বৈশিষ্ট্যের গভীর সংযোগ রয়েছে। মূলত স্বাদ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি কেবল জিহ্বার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। জিহ্বা কেবল মিষ্টি, টক, নোনতা, তিতা এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের উমামি স্বাদ শনাক্ত করতে পারে। তবে ঘ্রাণগ্রন্থির সংবেদনশীলতা, খাবারের উত্তাপ, গঠনবিন্যাস ও পরিবেশনস্থলের পরিবেশ মস্তিষ্কে সামগ্রিক স্বাদের উপলব্ধি তৈরি করে।

দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত স্টেইনলেস স্টিলের বাসনপত্র সাধারণত মসৃণ, টেকসই এবং সহজে পরিষ্কারযোগ্য হলেও তা অত্যন্ত দ্রুত তাপ পরিবাহক হিসেবে কাজ করে। অপরদিকে খনিজসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক মাটি উচ্চতাপে পুড়িয়ে তৈরি করা মাটির পাত্রে তাপ সঞ্চালন হয় তুলনামূলক ধীরগতিতে। তবে সব মাটির থালার বৈশিষ্ট্য এক নয়; কাচের মতো আস্তরণ বা গ্লেজ দেওয়া পাত্র মসৃণ হয় এবং জল শোষণ রোধ করে, আর গ্লেজহীন পাত্র থাকে অমসৃণ ও ছিদ্রযুক্ত। তাই মাটির পাত্রে খাবার রাখলেই তা সবসময় অতিরিক্ত উত্তপ্ত থাকবে এমন কোনো সার্বজনীন নিয়ম নেই; কারণ তাপমাত্রার স্থায়িত্ব নির্ভর করে পাত্রের পুরুত্ব, উপাদানের তাপ পরিবাহিতা, পরিবেশের আবহাওয়া এবং খাবারের আয়তনের ওপর।

খাবারের ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ ও রঙের বৈপরীত্যও স্বাদ গ্রহণের ধারণাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সাদা চালের ভাত, হলুদ ডাল, সবুজ শাক কিংবা লাল মরিচ যখন গাঢ় বাদামি বা ধূসর মাটির পাত্রে সাজানো হয়, তখন রঙের বৈপরীত্য মানুষের খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে তোলে। গবেষণায় প্রমাণিত যে পাত্রের রঙের সঙ্গে খাবারের রঙের বৈপরীত্য স্বাদের পূর্বাভাসে প্রভাব ফেলে, যদিও এটি খাবারের কোনো রাসায়নিক রূপান্তর ঘটায় না। একইসঙ্গে মাটির পাত্রের বিশেষ স্পর্শানুভূতি বা ওজন খাওয়ার সামগ্রিক অনুভূতিতে পুরোনো স্মৃতি অথবা ঘরোয়া আবহ যুক্ত করে। তবে মাটির থালার অমসৃণ তল খাবারের অভ্যন্তরীণ স্বাদ বদলে দেয়—এমন দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

অন্যদিকে, মাটির পাত্রে খাবার রান্না করা এবং মাটির থালায় তা পরিবেশন করার কার্যপদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। মাটির হাঁড়ি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হলেও একবার তাপ গ্রহণ করলে দীর্ঘক্ষণ তা ধরে রাখতে পারে, যা ধীরগতির রন্ধনশৈলীতে মাংসের শক্ত সংযোজক কলা নরম করতে এবং বিভিন্ন মসলার সুবাস সঠিকভাবে মিশিয়ে দিতে সহায়ক। এছাড়া ছিদ্রযুক্ত মাটির পাত্র আর্দ্রতা শোষণ করে বাষ্প তৈরি করতে পারে, ফলে কম তেলেও খাদ্য শুকিয়ে না গিয়ে ভেজা থাকে। তবে রান্নার ক্ষেত্রে নিম্নমানের অথবা অনিয়ন্ত্রিত গ্লেজযুক্ত পাত্র ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ এতে ক্ষতিকর সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি থাকার আশঙ্কা থাকে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর