advertisement
advertisement

পূজার অবসরে ঘুরে আসুন খাগড়াছড়ির পাহাড় ও ঝরনায়: জেনে নিন দর্শনীয় স্থানগুলোর আদ্যোপান্ত


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
পূজার অবসরে ঘুরে আসুন খাগড়াছড়ির পাহাড় ও ঝরনায়: জেনে নিন দর্শনীয় স্থানগুলোর আদ্যোপান্ত

জেলা পরিষদ পার্কের জিপ লাইন

advertisement

আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটিতে পাহাড়, অরণ্য আর লেকের নৈসর্গিক পরিবেশে সময় কাটানোর দারুণ সুযোগ হতে পারে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি। আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচু পথ, সবুজ প্রকৃতি আর পাহাড়ি ঝরনাধারা ভ্রমণপিপাসুদের সবসময়ই টানে। পরিবার নিয়ে নিরিবিলিতে ঘোরাঘুরি হোক কিংবা রোমাঞ্চকর পাহাড়ি ট্র্যাকিং—উভয় ধরনের পর্যটকদের জন্যই খাগড়াছড়ি শহর ও তার আশপাশে রয়েছে আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র ও গুহা, রিছাং ঝরনা, দেবতা পুকুর, হাতিমাথা সিঁড়ি, হর্টিকালচার পার্ক এবং মায়াবিনী লেকের মতো চমৎকার সব স্থান।

জেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য। আলুটিলা পাহাড়ে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রে রয়েছে সুবিন্যস্ত হাঁটাপথ, সিঁড়ি ও একটি আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতু। এখান থেকে পুরো খাগড়াছড়ি শহর ও বিস্তৃত পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখা যায়। এখানকার বিশেষ আকর্ষণ হলো ‘মাতাই হাকর’ বা ‘দেবতার গুহা’, যা ত্রিপুরাদের ভাষায় এই নামে ডাকা হয়। সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে অন্ধকার, পিচ্ছিল ও স্যাঁতসেঁতে পাথুরে পথ পেরিয়ে এই প্রাকৃতিক গুহাটি অতিক্রম করতে হয়, যা দর্শনার্থীদের দারুণ রোমাঞ্চ উপহার দেয়। তবে গুহার ভেতর আলো পর্যাপ্ত না থাকায় টর্চলাইট, উপযুক্ত জুতা এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশাবলি মেনে চলা দরকার। শহর থেকে জিপ, অটোরিকশা কিংবা স্থানীয় গাড়িতে চড়ে খুব সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়।

আলুটিলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থান বিখ্যাত রিছাং ঝরনার। মূল সড়ক থেকে কিছুটা হেঁটে নামলেই দেখা মেলে সবুজে ঘেরা পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা ঝরনাধারা, পাহাড়ি জুমঘর আর বর্ণিল বুনো ফুল। পর্যটকদের জন্য এই ঝরনার কাছেই রয়েছে আরও একটি ছোট জলপ্রপাত, যার পানির প্রবাহ বৃষ্টি ও ঋতুর পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে। জেলা শহর থেকে মাটিরাঙ্গাগামী পথ ধরে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেলে করে ঝরনার প্রবেশমুখে পৌঁছানো যায়।

ইতিহাস ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মিশেলে গড়ে ওঠা দেবতা পুকুর খাগড়াছড়ির আরেকটি ঐতিহ্যমণ্ডিত দর্শনীয় স্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ফুট উঁচুতে নুনছড়ি ত্রিপুরা পাড়ায় এর অবস্থান। স্থানীয় ত্রিপুরাদের ভাষায় এটি ‘মাতাই পুখিরি’, যার অর্থ দেবতা পুকুর। তাদের বিশ্বাস, লোকজনের তৃষ্ণা দূর করতেই স্বয়ং দেবতা এটি খনন করেছিলেন। খাগড়াছড়ি–মহালছড়ি সড়ক হয়ে মাইসছড়ি দিয়ে নুনছড়ি ত্রিপুরা পাড়া পর্যন্ত গাড়িতে যাওয়া যায়। এরপর প্রায় ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মতো সিঁড়ি ভেঙে পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। এ জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল ও আরামদায়ক জুতা নেওয়া উচিত।

অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের প্রধান পছন্দ হতে পারে ‘হাতিমুড়া’ বা ‘মায়ুং কপাল’ নামে পরিচিত হাতিমাথা সিঁড়ি। খাড়া পাহাড়ের ঢালে বসানো এই সিঁড়ি বেয়ে ওঠা শারীরিকভাবে বেশ পরিশ্রমের হলেও ওপরের প্রাকৃতিক দৃশ্য অনন্য। তবে বর্ষায় সিঁড়ি পিচ্ছিল হতে পারে বলে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ। খাগড়াছড়ি–পানছড়ি রোডের পেরাছড়ায় নেমে চেঙ্গী নদী পার হয়ে প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে এই সিঁড়িতে যেতে হয়।

অল্প পরিশ্রমে সময় কাটাতে চাইলে শহরের কাছে অবস্থিত পার্বত্য জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক বেছে নেওয়া যেতে পারে। এতে রয়েছে বাচ্চাদের জন্য কিডস জোন, জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইংয়ের মতো বিনোদনের ব্যবস্থা। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী স্কয়ার থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের কংচাইরি পাড়ায় অবস্থিত মায়াবিনী লেক। ভাইবোনছড়া বাজার হয়ে পশ্চিমের এই কৃত্রিম হ্রদটি দুই পাহাড়ের মাঝে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে রয়েছে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার ও নৌভ্রমণের সুযোগ।

রাতযাপনের জন্য খাগড়াছড়ি শহরে রয়েছে পর্যটন মোটেল, শৈল সুবর্ণ, মাউন্টেন, হোটেল গাইরিং ও অরণ্য বিলাসের মতো বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল। ভ্রমণকারীরা মানভেদে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে এসব হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিতে পারবেন।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর