advertisement
advertisement

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর আদায়ে হাইকোর্টের নির্দেশে চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর আদায়ে হাইকোর্টের নির্দেশে চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ

সুপ্রিম কোর্ট

advertisement

পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে সরকারের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বকেয়া কর আদায়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির করা পৃথক দুটি লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে রোববার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আবেদন দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক চেয়ারম্যান হলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

এর আগে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত পাঁচটি করবর্ষের জন্য কর কমিশনারের কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট খারিজ করে গত ১০ সেপ্টেম্বর রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত ১২ অক্টোবর প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে রিট আবেদনকারীর কাছ থেকে দ্রুত বকেয়া কর আদায়ের জন্য এবং নোটিশ জারির মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্দেশনার অংশটুকুর বিরুদ্ধেই চেম্বার আদালতে যায় গ্রামীণ কল্যাণ।

আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন ও সরদার জিন্নাত আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে আপাতত আর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না এবং ১৩ ডিসেম্বর নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মেহেদি হাসানও নিশ্চিত করেন যে হাইকোর্টের রায়ের শুধু অর্থ আদায়ের নির্দেশনামূলক অংশটি স্থগিত করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গ্রামীণ টেলিকম ও গ্রামীণ কল্যাণের চুক্তির ভিত্তিতে গ্রামীণফোনে বিনিয়োগের লভ্যাংশ থেকে অর্জিত মুনাফার ৪২ দশমিক ৬৫ শতাংশ গ্রামীণ কল্যাণের পাওয়ার কথা ছিল। তবে এই অর্থ লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য হবে নাকি ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ হিসেবে বিবেচিত হবে—তা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। কর কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি লভ্যাংশ নয় বরং সুদ বা বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয়। এ নিয়ে ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ রিট করলে আদালত রুল জারি করেন। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করে বিলম্ব মার্জনা সাপেক্ষে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ দিয়ে রায় দেন।

পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের ১১ মার্চ রিটটির পুনঃ শুনানির নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী শুনানি শেষে গত ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করলেও বিচারিক ত্রুটির কারণে ২৯ আগস্ট তা প্রত্যাহার করা হয়। কারণ ওই বেঞ্চের এক বিচারক অতীতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটিতে লড়েছিলেন। এরপর প্রধান বিচারপতি বিষয়টি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠালে গত ১০ সেপ্টেম্বর রিট খারিজ করে কর আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যা এবার চেম্বার আদালতে স্থগিত হলো।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর