জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, উপসর্গমাত্র
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ঘরে ঘরে জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল সেবনের পরও শরীরের তাপমাত্রা সহজে না কমায় পরিবারে উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, জ্বর কোনো স্বতন্ত্র রোগ নয়, এটি শারীরিক নানা সমস্যার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এর পেছনে ফ্লু, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, মস্তিষ্কের প্রদাহ কিংবা হেপাটাইটিসের মতো বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। ডেঙ্গুসহ নানা ভাইরাল জ্বর সাধারণত তিন থেকে চার দিন, এক সপ্তাহ বা তার চেয়েও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। তবে শুধু জ্বরের মাত্রাই নয়, সার্বিক শারীরিক অবস্থার দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
জ্বর চলাকালীন পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। মুখ বা জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া এবং প্রস্রাবের পরিমাণের ওপর নজর রাখতে হবে। দিনে প্রায় ২ দশমিক ৫ লিটার পানি, ডাবের পানি, স্যুপ কিংবা খাওয়ার স্যালাইনের মতো তরল খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। নিয়মিত তাপমাত্রা মেপে জ্বর কতটা উঠছে এবং কত দিন থাকছে তা খেয়াল রাখা দরকার। বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক বা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। ওষুধে জ্বর না কমলে আতঙ্কিত না হয়ে শরীর স্পঞ্জ করা এবং আলো-বাতাসপূর্ণ পরিবেশে থাকা উচিত।
গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহবুবা শবনম জানান, জ্বর তিন দিন বা তার বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। এছাড়া জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, কাশি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, তীব্র মাথাব্যথা, বারবার বমি, পাতলা পায়খানা, পেটে প্রচণ্ড ব্যথা, রক্তপাত, প্রস্রাব কমে যাওয়া কিংবা খিঁচুনির মতো লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী কিংবা পূর্বে থেকেই জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যেকোনো মাত্রার জ্বরেই সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।