কানাডার আলবার্টার ক্যালগারিতে একটি ভোটকেন্দ্রে নিবন্ধনের জন্য সারিতে দাঁড়িয়েছেন ভোটাররা। ১৯ অক্টোবর ২০২৬
কানাডার তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ আলবার্টায় দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নাকচ করে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার আয়োজিত এক আগাম ভোটে ভোটাররা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কানাডার অংশ হিসেবেই থাকতে চান এবং এ নিয়ে নতুন করে কোনো গণভোটের প্রয়োজন নেই। গণভোটের ফল প্রকাশের পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, পৃথক হওয়ার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে প্রদেশটির জনগণ তাঁদের ‘পরিষ্কার পছন্দের’ কথা প্রমাণ করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার রাত আটটায় শেষ হওয়া এ নির্বাচনে আলবার্টার মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩১ লাখ। ভোটের আগে পরিচালিত বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছিল, পশ্চিমাঞ্চলীয় এ প্রদেশের এক-চতুর্থাংশের কম মানুষ কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার পক্ষে। তবে ফলাফল জানার পরও বিচ্ছিন্নতাবাদী দল ‘আলবার্টা প্রসপারিটি প্রজেক্ট’-এর নেতা মিচ সিলভেস্টার বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, তিনি এখনও আশাবাদী। প্রাদেশিক রাজধানী এডমন্টনের একটি রেস্তোরাঁয় জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। কিন্তু আজ রাতেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। আমরা এই প্রদেশে কিছু একটা জাগিয়ে তুলেছি, আর সেই চেতনা কোথাও চলে যাচ্ছে না।’ অন্যদিকে দেশপ্রেমের পক্ষে প্রচার চালানো ‘ফরএভার কানাডিয়ান’ সংগঠনের প্রধান টমাস লুকাশুক বলেন, কানাডীয়দের মধ্যে তিনি যে উদ্দীপনা ও অবিচলতা দেখেছেন, তা সত্যিই অসাধারণ। এডমন্টনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা ৪৪ বছর বয়সী হেইলি এরডেগার্ড এএফপিকে নিজের মতামত জানিয়ে বলেন, নতুন একটি রাষ্ট্র গঠনের মতো হঠকারী পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে আরও নজর দেওয়া উচিত।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে আলবার্টায়। জ্বালানি তেলশিল্প নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে ক্ষোভ থেকেই প্রদেশটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী ধারণার জন্ম হয়। আলবার্টার রক্ষণশীল প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জানান, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভক্তির ইতি টানতেই এই ভোটের আয়োজন করা হয়েছিল, যাতে তিনি নিজেও স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। স্মিথ অঙ্গীকার করেছিলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ স্বাধীনতা চাইলে তিনি চূড়ান্ত গণভোট দেবেন, তবে কেন্দ্রের সঙ্গে থাকার পক্ষ জয়ী হলে বিচ্ছেদের দাবিটি আর কখনোই তোলা উচিত হবে না। স্মিথের দাবি, কার্নির পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডোই জলবায়ু এজেন্ডা বাস্তবায়নে তেল উৎপাদন বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদের পালে বাতাস দিয়েছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর পাশাপাশি দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীভূত করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এমন ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে ভোট আয়োজনের জন্য এটি ছিল ‘সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ’ সময়। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক গভর্নর হিসেবে ব্রেক্সিট পরবর্তী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে কার্নি সতর্ক করেন, এ ধরনের অবাধ্যতামূলক ভোট আয়োজন আসলে ‘বিপজ্জনক এক ভাঁওতাবাজি’। সিলভেস্টার অবশ্য কার্নির এই বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘হুমকি’ ও চরম অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেন।
এদিকে আলবার্টার স্বাধীনতাপন্থীরা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা ও রিপাবলিকান কৌশলবিদদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আলবার্টাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক চলতি মাসেই এক্সে মন্তব্য করেন যে আলবার্টার আলাদা হয়ে যাওয়া উচিত। তবে আলবার্টায় বেড়ে ওঠা প্রধানমন্ত্রী কার্নি গত বছর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই প্রাদেশিক রাজধানীগুলোর সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে সচেষ্ট হয়েছেন। ট্রুডোর মেয়াদে কার্যত অসম্ভব বিবেচিত হওয়া আলবার্টার আঠালো অপরিশোধিত তেল বা বিটুমিন বিদেশে রপ্তানির নতুন একটি পাইপলাইন নির্মাণে স্মিথের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন কার্নি।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।