নাটোরে বড়াইগ্রাম উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ ব্যবসায়ী শরীয়তপুরের জাজিরার বাসিন্দা। তাঁদের মৃত্যুর খবর পেয়ে এলাকায় চলছে স্বজনদের আহাজারি। আজ দুপুরে জাজিরার ডুবিসায়বর এলাকায়
মৌসুমের প্রাক্কালে বীজ ও রবিশস্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচজন ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় তাঁদের সঙ্গে থাকা আরও দুজন ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কাছে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘আরপি স্পেশাল পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৯ জন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে আরও ৫ জনসহ সর্বমোট ১৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩২ জন যাত্রী।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যবসায়ীরা হলেন জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল মাদবর (৪০), ডুবিসায়বর এলাকার সালাল মোল্যা (৪৫), সোহাগ শিকদার (৩০), আব্দুস সামাদ ফকির (৭০) এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়ার বাসিন্দা শাহিন ব্যাপারী (২৫)। আহত ব্যবসায়ী আলমগীর মাদবর ও ফয়সল হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা সবাই জাজিরার কাজীরহাট বাজার ও এর আশপাশে ব্যবসা করতেন। স্থানীয় বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কৃষিপণ্য কিনতে তাঁরা একসঙ্গে রওনা হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে জুয়েল রড-সিমেন্ট ও রবিশস্য, সামাদ ফকির রবিশস্য, শাহিন হলুদ এবং সালাল ও সোহাগ পেঁয়াজ-রসুনের বীজ কেনাবেচা করতেন।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় জাজিরার নাওডোবা থেকে সাত ব্যবসায়ী প্রথমে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যান এবং সেখান থেকে ওই নৈশকোচে ওঠেন। বনপাড়া এলাকায় পৌঁছালে তাঁদের বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। নিহত জুয়েলের ভগ্নিপতি বাদল জমাদ্দার জানান, জুয়েলের বাবা-মা বেঁচে নেই; তিন ভাই মিলে কাজীরহাট বাজারে ব্যবসা করতেন। গতকাল বিকেলে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে রেখে ভুট্টার বীজ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।
কাজীরহাট বণিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, নিহতদের মরদেহ নিয়ে আসার জন্য তাঁরা নাটোরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করতে স্বজনেরা রাজশাহী গিয়েছেন। বড়কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর খলিফা বলেন, আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ এলাকায় নিয়ে আসতে সন্ধ্যা বা রাত হতে পারে। কাজীরহাট বাজারে মরদেহগুলো এনে শ্রদ্ধা জানানো শেষে পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা হবে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।