advertisement
advertisement

চুক্তি ও সমঝোতায় মানুষের প্রতিনিধি হতে প্রস্তুত হচ্ছে এআই: অ্যানথ্রপিকের নতুন উদ্যোগ


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
চুক্তি ও সমঝোতায় মানুষের প্রতিনিধি হতে প্রস্তুত হচ্ছে এআই: অ্যানথ্রপিকের নতুন উদ্যোগ

নতুন এআই এজেন্ট আনছে অ্যানথ্রপিক

advertisement

কর্মক্ষেত্রে পারিশ্রমিক নির্ধারণ, পণ্যের দাম নিয়ে দর-কষাকষি কিংবা গ্রাহকসেবার নানা বিরোধ মেটাতে মানুষের বিকল্প হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) এজেন্টকে গড়ে তুলছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। তবে এসব মধ্যস্থতায় এজেন্টগুলো যেন কোনো আইনগত বা নৈতিক সীমা অতিক্রম না করে, সেজন্য সংস্থাটি আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করছে। প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে মানুষের প্রতিনিধি হয়ে এআই বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক চুক্তি ও লেনদেনের বিষয়ে আলোচনা চালাবে।

এআই প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এমন এক বাস্তবতার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যেখানে দুটি ভিন্ন এআই এজেন্ট সরাসরি নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজ নিজ ব্যবহারকারীর পক্ষে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে। এতে মানুষের সার্বক্ষণিক উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা কমলেও আলোচনা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। গত সেপ্টেম্বরে এক ব্লগ পোস্টে অ্যানথ্রপিক জানায়, ভার্চ্যুয়াল বাজারে বই কেনাবেচার কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে কর্মীদের মাধ্যমে এজেন্টদের দক্ষতা যাচাই করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, কঠোরভাবে দর-কষাকষির নির্দেশপ্রাপ্ত এজেন্টগুলো তুলনামূলক ভালো সুবিধা আদায়ে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের এজেন্টগুলো সবার স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের কম পছন্দের বই নিয়েও সমঝোতা করেছে।

এদিকে এআই এজেন্টের এমন সক্ষমতা নতুন ধরনের ঝুঁকিরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক মিশেল ভাকারো এআই এজেন্টগুলোর মধ্যকার ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি দর-কষাকষি নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন, যেখানে চাকরির প্রস্তাব কিংবা বাড়িভাড়ার চুক্তির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, প্রম্পট ইনজেকশন বা বিশেষ নির্দেশনার কৌশল কাজে লাগিয়ে এক এজেন্ট অন্য এজেন্টকে বিভ্রান্ত করে গোপন তথ্য বের করে নিতে পারে। এর পাশাপাশি আরও একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেলগুলো কেবল বিত্তবান ব্যক্তি ও বড় প্রতিষ্ঠানের নাগালে থাকলে ছোট ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দর-কষাকষিতে পিছিয়ে পড়ে নতুন বৈষম্যের শিকার হবেন।

বর্তমানে মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে লেনদেন ও মধ্যস্থতাকারী এসব এআই এজেন্টের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট কোনো আইনি বা নীতিগত পরিকাঠামো নেই বলে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে এজেন্টগুলো কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, কোন পরিস্থিতিতে ছাড় দেবে কিংবা কখন মানুষের সরাসরি অনুমোদন প্রয়োজন হবে, তা দ্রুত স্পষ্ট করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর