advertisement
advertisement

দিরাইয়ে নারী শিল্পীদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তিতে বন্ধের ঘোষণার পরও বাউলগানের সংক্ষিপ্ত আসর


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
দিরাইয়ে নারী শিল্পীদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তিতে বন্ধের ঘোষণার পরও বাউলগানের সংক্ষিপ্ত আসর

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হাতিয়া গ্রামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলীর বাড়ির উঠানে গানের আসরে বাউল গান গাইছেন এক এক শিল্পী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে।

advertisement

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে নারী শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘অশ্লীলতার আশঙ্কা’ তুলে একাংশের বিরোধিতার মুখে একটি বাউলগানের অনুষ্ঠান প্রথমে স্থগিত ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে তা স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলীর বাসভবনে এ আসরের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, এই গ্রামের নিকটবর্তী তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামেই প্রয়াত বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের জন্মভিটা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়ের জন্মদিন উদ্‌যাপন উপলক্ষে শওকত আলী তাঁর নিজ বাড়িতে ঘরোয়াভাবে এক বাউলগানের আয়োজন করেছিলেন, যাতে স্থানীয় দুই নারী শিল্পীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে নারীদের সঙ্গীত পরিবেশনা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বুধবার দিরাই থানায় অনুষ্ঠানটি বন্ধের আবেদন করেন স্থানীয় দুই ব্যক্তি। এরপর পুলিশের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে শওকত আলী গানের আসরটি বাতিল করার কথা জানান। যদিও শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে সীমিত পরিসরে গান পরিবেশিত হয় বলে জানা গেছে। তবে শুক্রবার দুপুরে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শওকত আলী ফোন রিসিভ করেননি।

কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরার হোসেন জানান, ওই প্রবাসী অত্যন্ত সৌখিন প্রকৃতির মানুষ এবং ছোটবেলা থেকেই তিনি দেশে এলে বাড়িতে গানের আসর বসাতে দেখেছেন। বৃহস্পতিবার দিনে অনুষ্ঠানটি না হওয়ার কথা শুনলেও পরে জেনেছেন যে রাতে সেখানে কিছুক্ষণ গান হয়েছে।

অনুষ্ঠান বন্ধে থানায় আবেদনকারীদের অন্যতম হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা কামরুল হাসান শুক্রবার জানান, তাঁদের নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির প্রতি অভিযোগ ছিল না; বরং নারী শিল্পীদের বিষয়ে যেভাবে প্রচার চালানো হয়েছিল তা প্রতিহত করাই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় আয়োজক গান বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিলেন। কামরুল হাসান আরও বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে গান শুরু হলে তাঁরা পুলিশে খবর দেন। দিরাই সদর থেকে দুর্গম এই এলাকায় পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় রাত দুইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে তাঁরা নিজেরাই পুলিশকে আর না আসার অনুরোধ করেন।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে জানান, দুর্গম ওই অঞ্চলের আয়োজক শওকত আলীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার কথা হলে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে বিতর্ক এড়াতে আয়োজনটি করছেন না। তবে রাতে কিছু সময় গানের আসর চলার কথা তিনি শুনেছেন। এ নিয়ে কথা বলতে শওকত আলী ও তাঁর এক আত্মীয়ের ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কেউ সাড়া দেননি। এর আগে গত ৫ অক্টোবর ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র আপত্তির কারণে দিরাই উপজেলা সদরের স্টেডিয়ামে স্থানীয় স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যকার মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বাতিল করতে হয়েছিল, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর