ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান
গুজরাটের বরোদা শহরে পারিবারিক ভিটা সংলগ্ন সাড়ে ১৪ কাঠারও বেশি (৯৭৮ বর্গমিটার) জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটল সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য ইউসুফ পাঠানের। গতকাল শুক্রবার বরোদা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (ভিএমসি) স্ট্যান্ডিং কমিটি সর্বসম্মতভাবে জমিটির ওপর থেকে জবরদখলের অভিযোগ প্রত্যাহার করে তা তাঁর হাতে হস্তান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিপন্থী অবস্থানের পুরস্কার হিসেবেই ৪৩ বছর বয়সী এই সাবেক অলরাউন্ডার জমিটি ফিরে পেলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
২০২৪ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন ইউসুফ। পরবর্তীতে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয় এবং সংবিধান সংশোধনী বিলে দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা পাওয়ার লক্ষ্যে বিজেপির তৎপরতার মুখে দলত্যাগ করেন তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ। গত জুন মাসে নীতিগত অবস্থান বদলে এনসিপিআই নামের নবগঠিত দলে যোগ দেন ইউসুফ পাঠানও।
বিতর্কিত এই জমির ইতিহাস শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে, যে বছর ইউসুফ ভারতের জার্সিতে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন এবং পরবর্তী পাঁচ মৌসুম কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে আইপিএল খেলেন। নিজের ও ভাই ইরফান পাঠানের নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে তিনি ৯৭৮ বর্গমিটার জমি নিলাম ছাড়া ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দের আবেদন করেছিলেন। তখন ভিএমসি প্রতি বর্গমিটার ৫৭ হাজার ২৭০ রুপি হিসেবে মোট ৫ কোটি ৬০ লাখ রুপিতে তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও ২০১৪ সালে নিলাম ছাড়া জমি না দেওয়ার নীতিতে রাজ্য সরকার সেই প্রস্তাব নাকচ করে। এরপর ইউসুফ সীমানাপ্রাচীর তুলে জমিটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। ২০২৪ সালের জুনে তৃণমূল সাংসদ হিসেবে তিনি বরোদা পৌরসভার উচ্ছেদ নোটিশের মুখোমুখি হন। গুজরাট হাইকোর্টের একক বেঞ্চে ২০২৫ সালের আগস্টে মামলা খারিজ হওয়ার পর তিনি ডিভিশন বেঞ্চে যান এবং শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথ ধরে গত ৩১ আগস্ট মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।
শুক্রবার ভিএমসির স্ট্যান্ডিং কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে, ক্রিকেটে দেশের মুখ উজ্জ্বল করার স্বীকৃতি হিসেবে ৯৭৮ বর্গমিটারের মধ্যে ৫০০ বর্গমিটার জমি ইউসুফকে উপহার দেওয়া হচ্ছে। বাদবাকি ৪৭৮ বর্গমিটার জমি বরোদা নগর উন্নয়ন কমিটির নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় ৪৫ শতাংশ ছাড় দিয়ে ইউসুফের কাছে বিক্রি করা হবে, যার মোট মূল্য দাঁড়াবে ৫ কোটি ৬০ লাখ রুপি। পৌরসভার ৬৯ জন সদস্যের মধ্যে ১২টি স্থায়ী কমিটির সবকটিই বিজেপির নিয়ন্ত্রণে থাকায় সিদ্ধান্তটি বিনা বাধায় পাস হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিজেপি পরিচালিত বোর্ডের বিরুদ্ধে ‘ওয়াশিং মেশিন’ রাজনীতির অভিযোগ তুলে প্ল্যাকার্ড হাতে ভবনের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয় কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।