advertisement
advertisement

ইন্টারনেট স্বাধীনতায় টানা দ্বিতীয় বছর বিশ্বে শীর্ষে বাংলাদেশ, তবে গণমাধ্যম নিয়ে রয়েছে শঙ্কা


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ইন্টারনেট স্বাধীনতায় টানা দ্বিতীয় বছর বিশ্বে শীর্ষে বাংলাদেশ, তবে গণমাধ্যম নিয়ে রয়েছে শঙ্কা

advertisement

অনলাইন স্বাধীনতার ক্ষেত্রে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। তবে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে এখনো গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউসের ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ গবেষণাটি ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ১২ মাসের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্টারনেট স্বাধীনতার ১০০ স্কোরের মানদণ্ডে এ বছর বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে ৫০-এ; যা পূর্ববর্তী দুই বছরে ছিল যথাক্রমে ৪০ ও ৪৫। টানা দুই বছর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও বৈশ্বিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের ইন্টারনেট পরিবেশ এখনো ‘আংশিক স্বাধীন’ হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। সাধারণত ৭০ থেকে ১০০ স্কোর পেলে ‘স্বাধীন’, ৪০ থেকে ৬৯ পেলে ‘আংশিক স্বাধীন’ এবং ০ থেকে ৩৯ হলে ‘স্বাধীন নয়’ বলে বিবেচনা করা হয়। সূচকে অন্তর্ভূক্ত ৩৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ৫ পয়েন্ট অগ্রগতির মূল ৪ পয়েন্ট এসেছে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অবশিষ্ট ১ পয়েন্ট এসেছে অনলাইন কনটেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ার কারণে।

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট স্বাধীনতা টানা ১৬ বছরের মতো হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে ২০১৬ সালের পর এই প্রথম টানা একটি পূর্ণ বছর কোনো ধরনের ইন্টারনেট বন্ধ বা ব্ল্যাকআউটের ঘটনা ঘটেনি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন এবং তৎপরবর্তী সময়ে গ্রহণ করা সংস্কার উদ্যোগকে বাংলাদেশের এই অর্জনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক সমাবেশ ও আন্দোলন দমনে হরহামেশাই ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হতো, যার ধারাবাহিকতা দেখা গিয়েছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের সময়েও।

বিশ্বের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রায় ৭১ শতাংশের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রতিবেদনটি সাজানো হয়েছে। এতে দেখা যায়, সামগ্রিক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ ‘মুক্ত নয়’, ৩১ শতাংশ ‘আংশিক মুক্ত’ এবং মাত্র ৯ দশমিক ১ শতাংশ সম্পূর্ণ মুক্ত পরিবেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। তালিকায় ৯১ স্কোর নিয়ে সবার শীর্ষে রয়েছে এস্তোনিয়া এবং মাত্র ৯ স্কোর পেয়ে যৌথভাবে তলানিতে অবস্থান করছে চীন, ইরান ও মিয়ানমার। অন্যান্য দেশের মধ্যে রাশিয়ার স্কোর ১৬, পাকিস্তানের ২৭ এবং ভারতের স্কোর বাংলাদেশের সমান ৫০।

ইন্টারনেটে নাগরিকদের সার্বিক স্বাধীনতা বাড়লেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ফ্রিডম হাউস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত অনলাইন মাধ্যমের কর্মীসহ অন্তত ২৮০ জনের বেশি সাংবাদিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার শিকার হয়েছেন। মূলত ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগের প্রতি পক্ষপাতমূলক সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগেই অধিকাংশ মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার বিষয়টিও নথিবদ্ধ করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ‘ভারতপন্থী’ আখ্যা দিয়ে উগ্র জনতার চালানো হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে অনেক সময় বিগত সরকারের মতোই দমনমূলক নীতি অনুসরণ করেছে বলেও প্রতিবেদনে এসেছে।

এদিকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ফ্রিডম হাউস জানায়, গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে কীভাবে দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিভিত্তিক নিপীড়ন দূর করা যায়, বাংলাদেশ তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে তৈরি হওয়া এই অগ্রযাত্রাকে সংহত রাখা এবং একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিনির্মাণ করাই এখন নবনির্বাচিত সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর