advertisement
advertisement

হিজলায় মেঘনায় গুলিতে জেলের মৃত্যু: এখনো মামলা করেনি পরিবার, পুলিশের জিডি


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
হিজলায় মেঘনায় গুলিতে জেলের মৃত্যু: এখনো মামলা করেনি পরিবার, পুলিশের জিডি

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

advertisement

বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হোসেন হাওলাদার (৪০) নামের এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তা স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান হোসেন জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় পুলিশ নিজ উদ্যোগে জিডি করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বরিশালে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কীভাবে গুলির ঘটনাটি ঘটেছে তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিহত আক্তার হাওলাদার হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চর মেমানিয়া গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে। বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে মেমানিয়া ইউনিয়নের ওরাকুল ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশে বরিশালে নেওয়ার পথে সকাল নয়টার দিকে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট অতিক্রম করার পর তাঁর মৃত্যু হয়। নৌকার প্রত্যক্ষদর্শী জেলে আবদুল ব্যাপারী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে হালকা বৃষ্টির মধ্যে তাঁরা তীরের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নৌকা ছাড়েন। ওই সময় নৌ পুলিশ তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে আক্তার হোসেন ঢলে পড়েন। নিহত ব্যক্তির জামাতা আবুল বাশার অভিযোগ করেন, তাঁর শ্বশুরের মুখমণ্ডল ও বুকে ছররা গুলির ক্ষতচিহ্ন ছিল এবং অন্য জেলেদের বরাতে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন যে টহলরত নৌ পুলিশের গুলিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের একজন জেলে হজরত আলী জানান, মীরগঞ্জ ফেরিঘাট পার হওয়ার পর সকাল নয়টায় মৃত্যুর পর মরদেহ পুনরায় হিজলায় নেওয়া হলে নৌ পুলিশ সদস্যরা তা গ্রহণ করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেন।

তবে অভিযানের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরিশাল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) নাজমুল হক। তিনি স্পষ্ট জানান, ওই এলাকায় বরিশাল নৌ পুলিশ কোনো অভিযান চালায়নি কিংবা কোনো ধরনের গুলিও করেনি। একই কথা জানিয়েছেন চাঁদপুর নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান; তিনি জানান চাঁদপুরের নৌ পুলিশেরও সেখানে কোনো অভিযান ছিল না এবং জেলে কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন সে সম্পর্কে তাঁদের কিছু জানা নেই। এদিকে হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান জানান, স্পিডবোট নষ্ট থাকায় বুধবার রাতে তাঁদের কোনো দল নদীতে যায়নি, কেবল শেষ দুই দিন ছোট ট্রলার নিয়ে সীমিত পর্যায়ে অভিযান চলেছে। হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলিয়াস সিকদার বলেন, ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত দুর্গম এবং চাঁদপুরের সীমান্তবর্তী হওয়ায় ঘটনার বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়, তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মা ইলিশ সংরক্ষণ ও প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নদী ও সাগরে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুক্রবার মধ্যরাতে সমাপ্ত হয়েছে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর