advertisement
advertisement

প্রবাস ও পরলোকের বাসিন্দাদের শ্রমিক সাজিয়ে টাকা লোপাট, করেরহাটের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের জোড়া মামলা


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১১ পূর্বাহ্ণ
প্রবাস ও পরলোকের বাসিন্দাদের শ্রমিক সাজিয়ে টাকা লোপাট, করেরহাটের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের জোড়া মামলা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

advertisement

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের পঞ্চান্নটি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ভুয়া ভাউচারের আশ্রয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে (ইজিপিপি) পরলোকগত ব্যক্তি ও প্রবাসে থাকা মানুষদের শ্রমিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তাঁদের নামে অর্থ তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. এনায়েত হোসেন ওরফে নয়নসহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা ঠুকেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা মৃত ও প্রবাসী ব্যক্তিদের শ্রমিক সাজিয়ে ইজিপিপি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ তুলে নিয়েছেন। পাশাপাশি ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে জাল ভাউচার তৈরিসহ বিবিধ অনিয়মে জড়িয়েছেন। এসব অপরাধে হওয়া দুটি মামলাতেই এনায়েত হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর মেয়াদে করেরহাট ইউপির এক শতাংশ করের অর্থে ৫৫টি উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এগুলোর তদারকি ও রূপায়ণে চেয়ারম্যান এনায়েত এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ না করেই জাল ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাউচারে নাম থাকা একাধিক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীরা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট লেখা কিংবা স্বাক্ষর তাঁদের নয়। এমনকি প্রকল্প কমিটির সভার বিবরণীসহ অন্যান্য নথিতে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাইরে থাকা অন্য সদস্যদের অধিকাংশ স্বাক্ষরও ছিল জাল। ভুয়া ভাউচারের মামলায় এনায়েত হোসেন ছাড়াও আসামি করা হয়েছে সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার, তাহেরা বেগম এবং সাবেক সদস্য মো. আবু তাহের (মাস্টার), মো. শহীদ উল্লাহ, মো. বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মো. আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলীকে।

অপর মামলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ইজিপিপি প্রকল্পের ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এসেছে। এতে বলা হয়, অকার্যকর ও মৃত ব্যক্তিদের শ্রমিক বানিয়ে অর্থ উত্তোলন করা ছাড়াও অনেক প্রকৃত শ্রমিকের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। যেমন, পশ্চিম জোয়ার এলাকার মোহাম্মদ হারুন ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করলেও ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে ৪০ হাজার ৫০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়, যা তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগমকে বিস্মিত করে। একইভাবে প্রয়াত মোস্তফার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেও অর্থ সরানো হয়, যে বিষয়ে তাঁর স্ত্রী শামসুন নাহার কিছুই জানতেন না।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর