বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি চিকিৎসক এ কে আজাদ খান। ৩১ অক্টোবর
প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সুস্বাস্থ্য ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে তাঁদের একাকী জীবনের অবসান ঘটানো জরুরি। এর জন্য পারিবারিক স্নেহ ও সান্নিধ্যের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক গুণীজন সংবর্ধনা সভায় বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শনিবার বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে পারস্পরিক মতবিনিময় ও মেলবন্ধন বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সমাজের তিনজন বিশিষ্ট প্রবীণ ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন—বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক চিকিৎসক এ কে আজাদ খান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অর্থনীতিবিদ সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং কৃষিবিজ্ঞানী জহুরুল করিম।
বক্তব্যে অধ্যাপক এ কে আজাদ খান উল্লেখ করেন, দেশে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁদের কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। প্রবীণদের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা সমাজ বিনির্মাণে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, শুধু অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্যই প্রবীণদের ভালো রাখার জন্য যথেষ্ট নয়; তাঁদের প্রয়োজন পরিবারের সান্নিধ্য, সন্তানদের মমতা এবং নিবিড় মানসিক সমর্থন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠনের পাশাপাশি নারী ও শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা আবশ্যক। প্রবীণদের অনুকম্পার চোখে না দেখে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান তিনি। তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন করা গেলে উভয় প্রজন্মই লাভবান হবে বলে তিনি অভিমত দেন।
অর্থনীতিবিদ সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিত্তবৈভব থাকা সত্ত্বেও অনেকে নিঃসঙ্গতায় ভোগেন। পরিবার ও সন্তানের ভালোবাসা যেমন তাঁদের কাম্য, তেমনি অভিভাবকহীন প্রবীণদের সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি জরুরি। পাশাপাশি তিনি প্রবীণদের চিকিৎসায় দেশে পৃথক জেরিয়াট্রিক সেবা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে কৃষিবিজ্ঞানী জহুরুল করিম জানান, প্রবীণদের নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসার অপ্রতুলতা রয়েছে। তিনি এই সংগঠনের কল্যাণমূলক তৎপরতা শুধু শহরে সীমাবদ্ধ না রেখে তৃণমূল বা গ্রামে সম্প্রসারিত করার তাগিদ দেন। বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ কে এম রেজাউল হক আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন এবং প্রবীণদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।