জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের ঢাকা আঞ্চলিক প্রাথমিক পর্বে সনদ ও পদক পাওয়া সেরা ১০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে অতিথিরা। শনিবার বিকেলে তোলা ছবি।
সারা দেশের ১৪টি নির্ধারিত কেন্দ্রে শনিবার একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড ২০২৭-এর আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রাথমিক পর্ব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ এবং বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় উচ্চমাধ্যমিক ও এ-লেভেল স্তরের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিটি কেন্দ্রের সেরা ১০ জন বিজয়ীকে মেডেল ও সনদ প্রদান করা হয়।
এদিন সকালে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও অর্জনের। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ বিভিন্ন র্যাঙ্কিংয়ে কখনো প্রথম, কখনো দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশে সহায়ক হবে। উদ্বোধনের পর উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি আনন্দ র্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা অঞ্চলে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের উচ্চমাধ্যমিক এবং বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এ-লেভেলের নিবন্ধিত ২৮৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে ২৪০ জন বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পদ্ধতির এ পরীক্ষায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককেই সনদ দেওয়া হয় এবং শীর্ষ ১০ জনকে পদক ও সনদে ভূষিত করা হয়। সারা দেশের প্রতিটি ভেন্যুর সেরা ১০ জন করে বিজয়ী আগামী ২৮ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে আয়োজিত চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
চূড়ান্ত পর্বে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত শীর্ষ চার প্রতিযোগী ২০২৭ সালে তাইওয়ানের তাইপেতে আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। আন্তর্জাতিক এ আসরটি আগামী বছরের ১৯ থেকে ২৮ জুলাই আয়োজিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পুরস্কার বিতরণ পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন। তিনি মন্তব্য করেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে রসায়নবিষয়ক জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পথ সুগম হয়। জ্ঞান ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে রসায়নের প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্য আলোচক একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী করার তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. এমরান কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এ কে এম লুৎফর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ সৈয়দ আলম এবং রসায়ন সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মুখ্য সচিব মো. আবদুল করীম। এতে সভাপতিত্ব করেন অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আমিনুল হক।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।